প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন অবস্থা হয়, এখন তাদের অবস্থাও তেমন। আমার বিরুদ্ধে কথা বলে প্রচারণায় থাকতে চাইলে বহু ভদ্র রাস্তা আছে। দান-খয়রাত করেন, ভালোভাবে কথা বলেন। গালিগালাজ করে, অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজেকে জাহির করবেন না।'
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, 'জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না, ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।'
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমার সম্পর্কে যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এসব বলছেন, তারা বয়সে পরিণত, অনেকেই সংসারী। আজকের এসব কথাবার্তার রেকর্ড ভবিষ্যতে থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে কথা বলুন। কুৎসা রটনা না করে বরং নিজের কাজ ও পরিকল্পনার কথা বলুন।'
এ সময় জামায়াতে ইসলামের একটি অংশের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, 'বিএনপিকে নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা নোংরা ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। এমনকি দেশের চাকরিজীবী নারীদের নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি কখনো কোনো অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করিনি। যদি কারও সাহস থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে শালিস বসান। আমি চুরি-চামারি করে বড় হইনি, গায়ে খেটে বড় হয়েছি।'
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। পোলিং এজেন্টদের প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া কেন্দ্র ত্যাগ না করবেন না। ভোট অফিসে নিয়ে গণনার প্রস্তাব এলে তা মেনে নেবেন না। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। ভোটের অধিকার রক্ষায় মানুষ প্রস্তুত।'
হল মার্কেটে বক্তব্য শেষে মির্জা আব্বাস গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। পরে বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পর সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন।