বৈশ্বিক খাদ্য, সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
শুক্রবার পৃথক দুটি প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং জরুরি জনসেবা সচল রাখতে সহায়তা করা হবে।
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৬ সালের আমন ও ২০২৭ সালের বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। তাই সারের ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।
এদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় অর্থের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতেও অর্থ ব্যয় করা হবে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যেই এই অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত অর্থ ছাড় দিয়ে অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা যায়।