মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা–বোনের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বিজয়ের মাস উদ্যাপন করছে শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা।
হলের মূল প্রবেশপথে মেঝেজুড়ে বিছানো হয়েছে রাজাকার–আলবদরদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার। এক পোস্টারে আঁকা ব্যঙ্গচিত্রের ওপরে মোটা লাল ক্রসচিহ্ন; চারপাশে পায়ের ছাপ। তাদের বার্তা “রাজাকার আল বদর কিছুই রবে না রে।” অন্য পোস্টারগুলোতেও রয়েছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদের বার্তা।
হলের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রতীকী বার্তা সম্বলিত বেশ কয়েকটি পোস্টার দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে এবং প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস বোঝাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পোস্টারে রাজাকার–আলবদরদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ঘৃণ্য ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বার্তাটি ছিল দেশদ্রোহী শক্তির কোনো অবশিষ্ট যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেনে না নেয়।
আরেকটি পোস্টারে পাকিস্তানি সামরিক শাসন এবং ১৯৭১ সালের নৃশংসতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে কঠোর ভাষায় জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে কোনো আপস নেই। পাকিস্তানের প্রতীকী চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসব পোস্টারের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়—বরং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভূমিকা ও সেই সময়ের অত্যাচারের ইতিহাস বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা। বিজয়ের মাসে এসব আয়োজনে ক্যাম্পাসজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সৌজন্যে এ আয়োজন করেছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীবৃন্দ।