ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসনের’ ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে চীনা মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদী আচরণ শুধু ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন এই আগ্রাসনের ঘোর বিরোধিতা করে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মার্কিন হেফাজতে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘আধিপত্যবাদী নীতি’ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিং বলেছে, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করে জাতিসংঘ সনদের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে। চীনের মতে, প্রতিটি দেশেরই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার। মাদুরো সরকারের পতনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভেনেজুয়েলায় চীনের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন। রাশিয়ার মতো চীনও এখন নীরবতা ভেঙে এই ঘটনায় কড়া ভাষায় অবস্থান জানাতে শুরু করেছে।