ভারতে বড়দিন উদ্যাপনের প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আসামের নলবাড়ি শহরে একটি মিশনারি স্কুলে ভাঙচুর চালিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের কর্মীরা। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও দিল্লিতেও বড়দিনকে কেন্দ্র করে একাধিক বিশৃঙ্খল ঘটনার তথ্য মিলেছে।
নলবাড়ির সিনিয়র পুলিশ সুপার বিবেকানন্দ দাস ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, পানিগাঁও এলাকার সেন্ট মেরিস ইংলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা স্কুলের বড়দিনের সাজসজ্জা নষ্ট করার পাশাপাশি শহরের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ক্রিসমাস অর্নামেন্টও ভাঙচুর করে।
বড়দিন উদ্যাপন ঘিরে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনার খবর এসেছে বিজেপি-শাসিত ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ থেকে। ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে ম্যাগনেটো মলে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক আকস্মিক হামলা চালিয়ে বড়দিনের সব সাজসজ্জা গুঁড়িয়ে দেয়। কথিত ধর্মান্তরের প্রতিবাদে ‘সর্ব হিন্দু সমাজ’-এর ডাকা ধর্মঘট চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় এফআইআর করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলায় একটি গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে বজরং দলের কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ছাড়া কাটঙ্গা এলাকায় এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিজেপি নেত্রী অঞ্জু ভার্গবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী বড়দিন উদ্যাপনের জন্য গির্জায় গিয়েছিলেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, বড়দিন পালন মানেই ধর্মান্তর নয়।
রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর জেলায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো স্কুল শিশুদের সান্তা ক্লজের সাজে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারবে না। স্থানীয় একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত ওই এলাকায় শিশুদের ওপর খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রাজধানী দিল্লির লাজপতনগর এলাকায় বড়দিনের টুপি পরা কয়েকজন নারীকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বজরং দলের সদস্যরা ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে ওই নারীদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। তবে দিল্লি পুলিশ ঘটনাটিকে তুচ্ছ ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে কোনো মামলা গ্রহণ করেনি।