শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

বাউলদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল

বাউল সম্রাট আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে এবং সারাদেশে বাউল–ফকির–সূফীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬
বাউল সম্রাট আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে এবং সারাদেশে বাউল–ফকির–সূফীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন এবং কামাল উদ্দিন হল সংলগ্ন সড়ক ঘুরে বটতলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় মিছিলে ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, আবুল সরকারের মুক্তি চাই’, ‘হামলা–মামলা–হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া’, ‘বাউলের ওপর হামলা থামাও, রাষ্ট্র এবার দায় নাও’, ‘কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘ভিন্ন মতের স্বাধীনতা দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘লাগবো রে লাগবো, স্বাধীনতা লাগবো’—ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান হাসান শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশ শুরু হয়। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে দেশে দুটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল—একটি হামলাকারী, অন্যটি প্রতিবাদকারী। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশে বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে হিন্দুদের আলাদা করা হলো, সূফীদের আলাদা করা হলো, বাউলদের আলাদা করা হলো, কালিয়াদীদের আলাদা করা হলো। এমন বিভাজনের দেশ আমরা দেখতে চাই না। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।”

এ সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিস বলেন, “আপনারা জানেন, সম্রাট আবুল সরকারের একটি পালাগানের খণ্ডিত অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সেই অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অংশ। তার পালাগানটি ছিল চার ঘণ্টার, কিন্তু সেটির অংশ কেটে মাত্র চার মিনিটের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জে যখন তার ভক্তরা মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে, তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং নিকৃষ্টভাবে লাথি মারা হয়েছে। তারা নাকি ধর্ম অবমাননা করেছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাইজা মেহেজাবিন প্রিয়ন্তি বলেন, “আমরা আজ একত্রিত হয়েছি বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে এবং সারাদেশে বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে। আমরা ক্লান্ত—গত দুই বছর ধরে, বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর থেকে, মাঝারে লাগাতার হামলা হচ্ছে। যারা ভিন্ন মতের অনুসারী—বাউল, সূফি—তাদের চুল–দাড়ি কেটে দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর যে আক্রমণ, তা এই দেশে কোনোভাবেই কাম্য ছিল না, বিশেষ করে যখন আমরা সবাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গত দুই বছরে হওয়া এতগুলো হামলার একটিরও সুষ্ঠু বিচার করতে পারেনি এই ইন্টারিম সরকার। অর্থাৎ আমরা আবারও বিচারহীনতার ফ্যাসিস্ট রেজিমের মতো পরিস্থিতিতে পড়ে আছি। আমরা এর তীব্র ধিক্কার জানাই।”

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

শিরোনাম:
সদ্য. রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সদ্য. লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের সদ্য. মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: আইনমন্ত্রী সদ্য. এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সিলেটে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সদ্য. আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী সদ্য. মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সদ্য. মিরপুর কলেজের দেয়াল ধস: টিসিবির নামে ভুল সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সদ্য. সাকিব আল হাসানকে টপকে এখন শীর্ষে পরীমনি সদ্য. ছাত্রলীগকে গুপ্ত থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বললেন প্রক্টর সদ্য. রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সদ্য. লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের সদ্য. মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: আইনমন্ত্রী সদ্য. এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সিলেটে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সদ্য. আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী সদ্য. মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সদ্য. মিরপুর কলেজের দেয়াল ধস: টিসিবির নামে ভুল সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সদ্য. সাকিব আল হাসানকে টপকে এখন শীর্ষে পরীমনি সদ্য. ছাত্রলীগকে গুপ্ত থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বললেন প্রক্টর