এর ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফল যাই হোক না কেন, শতবর্ষী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেলেসাওদের ডাগআউটে ‘কারলেত্তো’র থাকা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে ফেরার গুঞ্জন থাকলেও নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই আলোচনায় কার্যত ইতি টানতে যাচ্ছেন আনচেলত্তি।
গত গ্রীষ্মে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আনচেলত্তি দায়িত্ব নেন ব্রাজিলের। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রথম বিদেশি কোচ। বিশেষ শর্তে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কাজের পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। নতুন চুক্তিতেও সেই সুবিধা বহাল থাকছে। বার্ষিক প্রায় এক কোটি ইউরো বেতন অপরিবর্তিত থাকলেও পারফরম্যান্স বোনাস বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
দোরিভাল জুনিয়রকে বরখাস্তের পর যখন ব্রাজিল কনমেবল বাছাইপর্বে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছিল, তখন দলের হাল ধরেন আনচেলত্তি। তার অধীনে প্রথম আট ম্যাচে ব্রাজিল পেয়েছে চার জয়, দুটি ড্র ও দুটি হার। পরিসংখ্যান খুব একটা চোখ ধাঁধানো না হলেও দলের ভেতরের পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষ করে সাবেক ক্লাব শিষ্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও এদের মিলিতাওয়ের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। খেলোয়াড়রাও প্রকাশ্যে কোচের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
সিবিএফ সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেস জানিয়েছেন, আনচেলত্তি কেবল কৌশলী কোচ নন, তিনি একটি দলের সংস্কৃতিই বদলে দিতে পারেন। বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলে কোচ বদলের যে পুরনো সংস্কৃতি ব্রাজিলে রয়েছে, সেখান থেকে সরে এসে এবার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় জোর দিচ্ছে ফেডারেশন।
আগামী জুনে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ২০০২ সালের পর ষষ্ঠ শিরোপার অপেক্ষায় থাকা সেলেসাওরা ২০২৬ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও, ২০৩০ সালের শতবর্ষী আসরকে সামনে রেখে এখন থেকেই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে। আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেই নতুন যুগের পথে হাঁটতে চাইছে ব্রাজিল ফুটবল।