নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এ সময় দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে রয়েছে, রোববার থেকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য পাবে কমিশন।
তিনি আরও বলেন, 'শঙ্কাহীন ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সবাই জানিয়েছে, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূল।'
নির্বাচন কমিশনার জানান, সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। এখন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
ভোটের আগে রাজধানীতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চললেও নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত এসব কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, এপিবিএন এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, পুলিশের দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বিজিবির ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে কোস্টগার্ড।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকিরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।