এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর একই বিসিএসের ৬৭৩ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তা চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষায় তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকেই ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে। তবে এ কারণে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের আমলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে একই বছরের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই ফল বাতিল করে দেয়।
ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন আবেদনকারীরা।
এদিকে ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে ৩ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে নিয়োগবঞ্চিতরা রিভিউ আবেদন করেন। গত বছরের ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে শুনানির নির্দেশ দেন। পরে শুনানি শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যকরের নির্দেশনা দেন সরকারকে।