শীঘ্রই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, এবার সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, অর্থ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, সড়ক পরিবহন ও সমাজকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দায়িত্ব পেতে পারেন এমন কয়েকজনের নাম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের নাম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী উচ্চশিক্ষিত ও পিএইচডিধারী সাতজন সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে কয়েকজনের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। আইন মন্ত্রণালয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য নাম হিসেবে রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদ।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সমাজসেবায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ড. এম এ মুহিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং বিএনপির নির্বাচিত পিএইচডিধারী সংসদ সদস্যদের একজন।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিমকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। আরও যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আন্দালিব রহমান পার্থ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান টুকু, শামা ওবায়েদসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সূত্র: বাংলাদেশ টাইমস