বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ বছরে এই মামলার তদন্তে চারটি সংস্থার অধীনে মোট সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ের মধ্যে মামলার শুনানির জন্য অন্তত ৮০টি তারিখ নির্ধারিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল।
সম্প্রতি তদন্তে নতুন গতি আসে। গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের জন্য আদালতের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পরই গ্রেপ্তারের এই পদক্ষেপ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
এদিকে, গ্রেপ্তারের দিন বিকেল ৫টার দিকে মামলার বাদী ও তনুর পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে ঘুরে বেড়ানো তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেনকে এদিন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বর্তমানে আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রথম গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তনু হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।